


সজনে পাতা :
১.মানুষের শরীরের প্রায় ২০% প্রোটিন, এর মাঝে মানুষের শরীরের যে ৯ টি এমাইনো এসিড খাদ্যের মাধ্যমে সরবরাহ করতে হয়, তার সবগুলোই এই পাতা গুড়ার মধ্যে বিদ্যমান।
এমাইনো এসিড শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মেটাবোলিজম এবং অন্যান্য শারীরবৃত্ত্বীয় কার্যাবলী সম্পাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
২. সজনে পাতার গুড়া ডায়াবেটিসের মত কঠিন রোগের বিরুদ্ধে কাজ করে। কারন এটি
শরীরে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে দারুন কার্যকর।
৩.ডায়রিয়া,কলেরা,আমাশয় সহ জন্ডিস সারাতে এ পাতার জুড়ি মেলা ভার।
৪. এতে প্রচুর পরিমাণে জিঙ্ক থাকে এবং পালংশাকের চেয়ে তিন গুণ বেশি আয়রণ বিদ্যমান, যা এ্যানিমিয়া দূরীকরণে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।
৫. সজনে শরীরে কোলেস্টেরল এর মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে ব্লাড প্রেশার কমাতে অন্যতম অবদান রাখে।
৬. ক্যান্সার সারাতে ও আর্থাইটিস নিরাময়ে খুবই উপকারী।
৭. শরীরকে ডিটক্সিফাই করে সজনে পাতা গুড়া আমরা জানি যে আমাদের শরীরে ৭০ থেকে ১০০ ট্রিলিয়ন সেল বা কোষ আছে এবং প্রত্যেকটি কোষের মধ্যে লক্ষাধিক রিঅ্যাকশন হয় প্রত্যেকদিন প্রতিমুহূর্তে এবং এই লক্ষাধিক ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া বিক্রিয়া হতে যেয়ে ভয়াবহ কিছু টক্সিন কিছু বিষানু কিছু ক্ষতিকর পদার্থ এই সেলের মধ্যে তৈরি হয়। এবং এগুলোকে আমরা বলি বর্জ্য পদার্থ টক্সিন ফ্রি-রেডিক্যাল । আর এইগুলো যদি আপনার সেলের ভিতর থেকে যায় তাহলে আপনি কখনোই সুস্থ থাকতে পারবেন না । আর এই সকল বর্জ্য পদার্থ আপনার শরীর থেকে বের করতে সজনে পাতা খেতে পারেন । এই সজনে পাতা দারুন ভাবে বডি ডিটক্স করতে পারে ।
৮. এটি ‘এইডস’ আক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
কারন নিয়মিত এ পাতা সেবন শরীরের ডিফেন্স সিস্টেমকে আরো শক্তিশালী করে এবং ‘ইমিউনিটি স্টিমুল্যান্ট’ হওয়ার দরুন
৯. এটি শরীরের হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি করে পুষ্টিবর্ধক কারন এই পাতায় কমলার চেয়ে ৭ গুন বেশী ভিটামিন ‘সি ‘ ও গাজরের চেয়ে ২ গুন বেশী ভিটামিন ‘A’ রয়েছে।
১০. ওটসের চেয়ে ৪ গুন বেশী ফাইবার থাকায় হজমে সহায়ক হয় এ পাতা তাই শরীরের ওজন কমাতেও ব্যায়ামের পাশাপাশি এটি বেশ কার্যকরী ভুমিকা পালন করে থাকে।
১১. মায়ের বুকের দুধ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই। পাতা থেকে তৈরি এক টেবিল চামচ পাউডারে ১৪% প্রোটিন, ৪০% ক্যালসিয়াম, ২৩% আয়রণ বিদ্যমান, যা এক থেকে তিন বছরের শিশুর সুষ্ঠু বিকাশে সাহায্য করে।
১২.গর্ভাবস্থায় এবং বুকের দুধ প্রদান কালীন সময়ে একজন মায়ের প্রতিদিনের আয়রণ এবং ক্যালসিয়ামে পটাশিয়ামের চাহিদা পূরণ করে থাকে।
১৩. এটির এন্টি-ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। এটি যকৃত ও কিডনী সুস্থ্য রাখতে এবং ত্বকের বলিরেখা দুর করে, সৌন্দর্য বর্ধক হিসেবেও কাজ করে থাকে।
১৪. সজনে-তে প্রায় ৯০টিরও বেশি এবং ৪৬ রকমের এন্টি-অক্সিডেন্ট বিদ্যমান।
১৫. এতে ৩৬ টির মত এন্টি-ইনফ্ল্যামমেটরি বৈশিষ্ট্য আছে। এছাড়াও এটি অকাল বার্ধক্যজনিত সমস্যা দূর করে এবং ক্যান্সারের বিরুদ্ধে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
১৬. বয়সে র ছাপ কমাতে, বয়স ধরে রাখতে ও ত্বকের বয়স বাড়তে বাধা দেয় এই নিউট্রুশনস সুপার ফুড খ্যাত পাতা র গুড়া।
এত বিশাল পরিমান নিউট্রিশন থাকায় গবেষকারা বলতে বাধ্য হয়েছেন সজনে পাতা একটি অলৌকিক পাতা বা মিরাকল ট্রি।